শরীরকে সতেজ ও সুস্থ রাখতে পানি খাওয়া অত্যন্ত জরুরী। চিকিৎসকরা বলেন, দিনে অন্ততপক্ষে ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি খেতে। আমরা সকলেই জানি যে ঈষদুষ্ণ পানি খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে। সকালে খালি পেটে এক গ্লাস ঈষদুষ্ণ পানি নিয়মিত খান। ঈষদুষ্ণ পানি জাদুর মতো কাজ করে।

পেটের সমস্যায়
কোষ্ঠকাঠিন্যের ক্ষেত্রে খুব ভালো কাজ দেয় ঈষদুষ্ণ পানি। যারা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগছেন তারা সকালে ঘুম থেকে উঠেই যদি এক গ্লাস উষ্ণ পানি খেতে পারেন তাহলে পেটের সমস্যা একেবারেই কমে যাবে। পেটের সমস্যায় ভোগা রোগীদের চিকিৎসকেরাও এই পরামর্শই দিয়ে থাকেন।
এটি দেহে টক্সিন দূর করতে সহায়তা করে। গরম জল শরীরের টক্সিন থেকে মুক্তি পেতে অস্থায়ীভাবে আপনার দেহের তাপমাত্রা বাড়িয়ে তোলে।
শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে ঘাম হয় এবং রোম কূপের ছিদ্রগুলি পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে। এইভাবে এটি আপনার ত্বকে প্রাকৃতিকভাবে পুষ্টি জোগায়।
শরীরের মেদ ঝরাতে
শরীরের মেদ ঝরাতে ঈষদুষ্ণ পানির গুরুত্ব অনেক। তাই অনেকেই আছেন সকালে ঈষদুষ্ণ গরম পানির মধ্যে লেবু ও মধু দিয়ে খান রোগা হওয়ার জন্য। ঈষদুষ্ণ পানি পান করলে শরীরের মেটাবলিক রেট বাড়ে এবং বেশি ক্যালরি পোড়ে। ঈষদুষ্ণ পানি খেলে খিদে কমে যায় তার ফলে ওজন বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে না।
বাতের সমস্যাতে
বাতের সমস্যাতেও কাজ দেয় এই ঈষদুষ্ণ পানি। ঈষদুষ্ণ পানি খাওয়ার ফলে শরীরে জমে থাকা টক্সিন সব যেহেতু ঘামের মাধ্যমে বেরিয়ে যায় তাই ব্যাথার অনুভূতি কম হয়। চিকিৎসকেরা বলেন, পেট পরিষ্কার থাকলে শরীর থেকে সমস্ত রোগ দূরে চলে যায়। তাই দিনে একবার করে অন্তত ঈষদুষ্ণ পানি পান করুন আর শরীর থেকে সব রোগ দূর করুন।
ঠিক যেভাবে আপনার কেটে ছড়ে গেলে গরম পানির শরণাপন্ন হতে হয়, সেভাবেই বাতের ব্যথা হোক বা অন্য কোন ব্যথা, এই জলেই মুশকিল আসান। সাধারণত রক্ত চলাচলের সমস্যার কারণেই শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হয় ব্যথা। ফলে এই পানি টক্সিন যেমন বেরিয়ে যাবে, তেমনই রক্তচলাচলও স্বাভাবিক হবে। ব্যথাও কমে যাবে।
নাক গলার খুসখুস সারাতে

নাক গলা খুসখুস প্রায় সকলের ঘরে ঘরে থাকে। সকালে উঠে হোক বা রাতে শুতে যাওয়ার সময়ে হাল্কা গরম পানি খেলে তার ভেপারটা নাক গলার যে রাস্তা, সেটাকে অনেক বেশি মসৃণ এবং মিউকাস ফ্রি করে দেয়। গলার এবং নাকের আরাম সহজেই হয়।
পিরিয়ডের সময়
যেভাবে যে কোনও ব্যথায় আমরা গরম পানির সেঁক দিই, ঠিক সেভাবেই যদি আপনি পিরিয়ডসের সময়ে হাল্কা গরম পানি খান, সহজেই লোয়ার অ্যাবডোমিনাল ব্যথা কমে যাবে। ব্যথার ওই ঈষদুষ্ণ হাল্কা তাপটাই আপনার ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে।
এছাড়াও উষ্ণ পানির আরও উপকার রয়েছে, জেনে নিন সে কথাও।
- অনেকেই সারা বছর ধরে সর্দি, কাশিতে ভুগে থাকেন। যখনই পানি খাবেন, তখনই অল্প করে গরম করে নিন। নিয়মিত হাল্কা গরম পানি খেলে এই সমস্যা দূর হবে সহজে।
- ব্রন, ফুসকুরির সমস্যায় যারা ভুগছেন, তাদের জন্যও উষ্ণ পানি খুবই উপকারী৷ সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে হাল্কা গরম পানি পান করলে ব্রন-র সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায় ৷
- মানসিক অবসাদে ভুগছেন ? হাল্কা গরম পানি পানিতে এক চামচ মধু মিশিয়ে পান করুন, ভালো বোধ করবেন ৷
ইত্তেফাক/এফএস