বাড়িতে বন্ধু বা আত্মীয়-স্বজন এলে সারা ঘরে একটা খুশির আবহ সৃষ্টি হয়। পুরনো স্মৃতি, নতুন কথার ভিড়ে একটু সুগন্ধী চা আর নানা ধরনের নাস্তায় ভরে যায় টেবিল। দারুণ সব খাবারের সঙ্গে আপ্যায়নে চাই বিশেষ ছোঁয়া।
আপনি বাড়ি যেমন সাজিয়ে রাখেন, পরদা, বিছানার চাদর, কুশন কভারের রং নিয়ে চুলচেরা বিচার করেন, ঠিক তেমনই রান্না করা এবং গুছিয়ে পরিবেশন করাও একটা সৃজনশীল প্রক্রিয়া। খুব সাধারণ রান্নাও পরিবেশনের গুণে অসাধারণ হয়ে উঠতে পারে। বাড়িতে অতিথি এলে প্রথমেই হাজির করবেন চা, কফি কিংবা ঠান্ডা পানীয়। বাজার থেকে আনা সফ্ট ড্রিংকটা নাই বা দিলেন। তার চেয়ে ঘরেই তৈরি করুন মৌসুমি ফলের জুস।

চা বা কফি দিলে সুন্দর টি-সেট ব্যবহার করুন। সুন্দর সাদা কাপ তো আছেই, চায়ের সোনালি রঙের জন্যে পারফেক্ট। আবার প্রিন্টেড টি কাপও দারুণ লাগে। তবে একগাদা রংচঙে না হলেই ভাল। আর এখন তো নানা শেপের চা-কাপ আর সসার পাওয়া যায়। কোনওটা ছড়ানো, কোনটা ডিম্বাকার, কোনওটা আবার বেঁটে, গোল। চিনেমাটির কাপও কিন্তু পিছিয়ে নেই। আর আজকাল তো নানা ধরনের পটারিজ় পাওয়া যায়। ব্যবহার করেই দেখুন। সঙ্গে থাকবে ভাল কাঠের ট্রে। আর পুতুল প্রীতি থাকলে সসারে রাখুন কুরুশে বোনা পুতুল কুরুশে বোনা পুতুল, আর তার উপর চায়ের কাপ। সসার না থাকলেও ক্ষতি নেই, কাঠের ট্রের উপর রাখুন আপনার সাজের পুতুল।
আড্ডা দেবেন অথচ সঙ্গে ভাজাভুজি থাকবে না, তা তো হবে না। মাছের চপই হোক কিংবা ডিমের ডেভিল বা ফিশ ফ্রাই কাঠের ফ্ল্যাট প্লেট কিংবা মাটির প্ল্যাটারে সবুজ পাতার কোলে সার্ভ করুন। সস পরিবেশন করুন বাহারি পাত্রে।টেবলে রাখুন ন্যাপকিন। এখন তো কত রকমের ন্যাপকিন হোল্ডার পাওয়া যায়। পুরনো স্টেনলেস স্টিলেরগুলো ব্যবহার করবেন না।
গড়পড়তা চিন্তাভাবনা ঝেড়ে ফেলে একটু অন্যভাবে ভেবেই দেখুন। যেমন ধরুন, শীতকালের সন্ধেতে বাড়িতে গেট টুগেদার। এ সময় একটু গরম গরম স্যুপের কোনও জবাব নেই। চিকেন, ভেজিটেবল স্যুপ তো আছেই। তবে গাজর বা পাম্পকিন স্যুপ থাকতে পারে আপনার মেন্যুতে। সুদৃশ্য বাটিতে সার্ভ করুন, সঙ্গে থাকুক ব্রেড বাস্কেট। বেত, জুট, কাপড় অপশনের কমতি নেই। চিলি চিজ় টোস্টও দারুণ জমবে। আর হ্যা, লোকাল দোকানের পাউরুটি নয়, ভাল কোয়ালিটির পাউরুটি খাওয়ান অতিথিদের। ক্রোসেন্ট কিংবা ক্রোয়াসঁ থাকতে পারে। আর টেবিলেই রাখুন সল্ট আর পেপার শেকার।

অতিথি আপ্যায়নে নিজে হাতে রান্না করুন, সুন্দর করে সাজান আর অবশ্যই আন্তরিকতার সঙ্গে পরিবেশন করুন। অ্যাপায়ন মানে তো আর কী খাওয়াচ্ছেন নয়, কীভাবে খাওয়াচ্ছেন, কীভাবে পরিবেশন করছেন, সেটাই জরুরি। তবেই না অতিথিরা আপনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হবেন।