বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারে গোলাগুলি অব্যাহত রয়েছে। সেখান থেকে ছোড়া পাঁচটি মর্টারশেল শুক্রবার রাতে নোম্যান্স ল্যান্ডে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়কেন্দ্রে এসে পড়ে।
মর্টারশেলের আঘাতে ইকবাল হোসেন ওরফে আব্বাস নামের একজন নিহত হন। এ ছাড়া শেলের আঘাতে দুই শিশুসহ পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
তাদের উখিয়া কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কানাপাড়া নোম্যান্স ল্যান্ডের আশ্রয়কেন্দ্রের দলনেতা দিল মোহাম্মদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে হঠাৎ করেই গোলাগুলি এবং মর্টারশেল নিক্ষেপের ঘটনা বেড়ে যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল বলেন, মিয়ানমারের ছোড়া গোলার আঘাতে তুমব্রু সীমান্তের ৪ জন আহত হওয়ার খবর পেয়েছি।
আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা ফেরদৌস জানিয়েছেন, সীমান্ত পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার পর সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিজিবি।
এর আগে নাইক্ষ্যংছড়ির তমব্রু সীমান্তে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষীদের পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশি যুবকের গোড়ালিসহ পায়ের পাতা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু হেডম্যান পাড়া এলাকায় মিয়ানমার সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। আহত যুবকের নাম অন্ন্যাথাইং তঞ্চঙ্গ্যা (২২)।
তার বাড়ি সীমান্তবর্তী ঘুমধুম ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়ায়। খবর পেয়ে খবর পেয়ে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি তমব্রু হেডম্যানপাড়ার অং কিউ থাইং তঞ্চঙ্গ্যার ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, চরানোর সময় অন্ন্যাথাইং তঞ্চঙ্গ্যার গরু সীমান্তের ওপারে চলে যায়। গরুটিকে ফিরিয়ে আনতে গেলে স্থলমাইন বিস্ফোরিত হয়ে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঘুমধুম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ।
তিনি জানান, ঘুমধুমের নয়টি পয়েন্টে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী ল্যান্ডমাইন স্থাপন করে রেখেছে। ইতঃপূর্বেও ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে ২০ জনের বেশি বাংলাদেশি এবং মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে, ঘুমধুম মৌজা হেডম্যান তানিসা প্রু তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর শুক্রবার থেকে তুমব্রু, বাইশফাঁড়ি, রেজু-আমতলী সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার সরকারি বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহী আরাকান আর্মির গোলাগুলি ফের শুরু হয়েছে।
সকাল থেকেই গুলি ও মর্টারশেল নিক্ষেপের বিকট শব্দ ভেসে আসছে বাংলাদেশেও। এতে উৎকণ্ঠা বাড়ছে সীমান্তবাসীদের মধ্যে।
সীমান্তবাসীরা জানান, মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় আরাকান আর্মির আস্তানা ধ্বংস করতেই মিয়ানমার সরকার বাহিনী মর্টারশেল নিক্ষেপ এবং ভারী অস্ত্রশস্ত্রের হামলা চালাচ্ছে।
মিয়ানমার যুদ্ধবিমান এবং ফাইটিং হেলিকপ্টার থেকেও গোলা নিক্ষেপ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দু’দফায় মর্টারশেল এবং যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপ করা গোলা উড়ে এসে পড়েছিল বাংলাদেশ সীমান্তের ঘুমধুম তুমব্রু এলাকায়।
ভারী অস্ত্রের গুলিও উড়ে এসে পড়েছিল তুমব্রু সীমান্তের জনবসতিতে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও সরকারের দায়িত্বশীল কোনো সংস্থার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।