হাইকোর্টে জামিন পেলেন এনামুল বাছির

সংগৃহীত ছবি।

ঘুষ লেনদেন ও অর্থ পাচারের দায়ে দণ্ডিত দুর্নীতি দমন কমিশনের বরখাস্ত পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. রইস উদ্দিনের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে ছয় মাসের জামিন দেন। আদালতে বাছিরের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফারুক আলমগীর চৌধুরী। দুর্নীতি দমন কমিশন -দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।

আইনজীবী ফারুক আলমগীর চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে এনামুল বাছিরের আপিল শুনানির জন্য উভয় পক্ষকে প্রস্তুতি নিতে বলে তাকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন। ‘ এনামুল বাছিরের নামে আর কোনো মামলা না থাকায় তার মুক্তিতে বাধা নেই বলে জানান এই আইনজীবী।

ঘুষ লেনদেন ও অর্থপাচারের মামলায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম এ মামলায় রায় দেন। রায়ে দুদকের বরখাস্ত পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে আট বছর ও পুলিশের বরখাস্ত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে তিন বছর কারাদণ্ড দেন আদালত।

এর মধ্যে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে মিজানকে দণ্ডবিধির ১৬১ ধারায় ও বাছিরকে দণ্ডবিধির ১৬৫(এ) ধারায় তিন বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আর অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের ৪ ধারায় বাছিরকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ৮০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। বাছিরের দুটি দণ্ড একসঙ্গে চলবে বলে রায়ে বলে দেওয়া হয়। অর্থাৎ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বাছিরকে। তবে দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় তারা দোষী সাব্যস্ত হলেও একই ধরনের অভিযোগে দণ্ডিত হওয়ায় এ ধারায় কাউকে সাজা দেননি বিচারিক আদালত।

এ রায়ের পর গত ১৩ এপ্রিল এনামুল বাছিরের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে তার অর্থ দণ্ড স্থগিত করেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে বিচারিক আদালতের যাবতীয় নথি তলব করেন উচ্চ আদালত। এরপর গত ২৩ আগস্ট এনামুল বাছিরকে তার আপিল নিষ্পত্তি পর্যন্ত জামিন দেন হাইকোর্টর একটি বেঞ্চ। তবে পরদিনই সে জামিন প্রত্যাহার করে নেন আদালত। বাছিরের আপিলের সাথে জামিন আবেদন ছিল না বলে জামিন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় বলে আদেশে জানান হাইকোর্ট। এরপর নতুন করে জামিন চেয়ে আবেদন করেন এনামুল বাছির। গত এপ্রিলে একই মামলায় দণ্ডিত বরখাস্ত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে জামিন দেন হাইকোর্ট।

LEAVE A REPLY