কুবি সাংবাদিক মনোয়ারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না : হাইকোর্ট

ফাইল ছবি

উপাচার‌্যের বক্তব্য উদ্বৃত করে সংবাদ করায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইকবাল মনোয়ারের বহিষ্ক আদেশ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করতে পাঠানো আইনি নোটিশে সাড়া না পেয়ে গতকাল রবিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট করেন ইকবাল মনোয়ার। 

আজ সোমবার এ রিটের প্রাথমিক শুনানির পর বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি মো.আলী রেজার হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শিহাব উদ্দিন খান।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।  

বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গের কথিত অভিযোগের বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে গত ২ আগস্ট কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ইকবাল মনোয়ারকে সাময়িক বহিষ্কারের আদেশ কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। 

শিক্ষা সচিব, বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান, কুবির উপ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, জনসংযোগ কর্মকর্তা এবং মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যানকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। 

আইনজীবী শিহাব উদ্দিন খান কালের কণ্ঠকে বলেন, “ইকবাল মনোয়ারের বহিষ্কার আদেশ স্থগিত করে আদালত তার বিরুদ্ধে পরবর্তী কোনো পদক্ষেপ নিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নিষেধ করেছেন।

”  

ইকবাল মনোয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। তিনি ‘যায়যায়দিন’ পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি। তার বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার আফজলনগর গ্রামে। তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির অর্থ সম্পাদক।

গত ৩১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের নবীনবরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপাচার্য এ এফ এম আবদুল মঈন। ওই বক্তব্য উদ্ধৃত করে ‘যায়যায়দিন’ পত্রিকার অনলাইনে ‘দুর্নীতি হচ্ছে তাই বাংলাদেশের উন্নয়ন হচ্ছে: কুবি উপাচার্য’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন করেন ইকবাল মনোয়ার। 

ওই প্রতিবেদনে উপাচার্যকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘অনেকেই বলে দেশে দুর্নীতির কারণে উন্নয়ন হচ্ছে না। কিন্তু আমি বলব উল্টো কথা। দেশে দুর্নীতি হচ্ছে বলেই উন্নতি হচ্ছে।

এটা নিয়ে অনেকেই বিভিন্ন কথা বলতে পারে। যে ঘুষ খায়, সে পদ্মাপাড়ে যায় ইলিশ খেতে। এতে পদ্মাপাড়ের গরিব মানুষেরা ধনী হচ্ছে। দুর্নীতি এভাবে অর্থনীতিতে অবদান রাখে। তাই অর্থনীতিবিদগণ দুর্নীতি নিয়ে কখনো কোনো বিরূপ মন্তব্য করে না। তবে যারা পলিটিক্যাল ইকোনমি নিয়ে কাজ করে তারা দুর্নীতি নিয়ে কথা বলে থাকে। নৈতিকতার জায়গায়ও এটি প্রশ্নবিদ্ধ। তবে অর্থনীতির জায়গা থেকে যদি বলি, দুর্নীতি কখনোই উন্নয়নের জন্য বাধা নয়।’

এই সংবাদের জেরে গত ২ আগস্ট ইকবাল মনোয়ারকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ওই আদেশে বলা হয়, ‘গত ৩১ জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের নবীনবরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানে উপাচার্য এ এফ এম আবদুল মঈনের বক্তব্যকে বিকৃত করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিমূলক মিথ্যা তথ্য প্রচার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন করার পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রক্টরিয়াল বডির প্রাথমিক প্রতিবেদন ও সুপারিশে আজ ২ আগস্ট অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের সভায় অনুমোদিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ইংরেজি বিভাগের ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইকবাল মনোয়ারকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হলো।’

পরে ইকবাল মনোয়ারের বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে গত ৯ আগস্ট বিবাদীদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। কিন্তু বেধে দেওয়া সময়ে তা না করায় ১৩ আগস্ট (রবিবার) হাইকোর্টে রিট করেন ইকবাল মনোয়ার। সে রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুলসহ আদেশ দিলেন উচ্চ আদালত। 

রিটে বলা হয়েছে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৬ এর ৩২ নং ধারা অনুযায়ী শৃঙ্খলা বোর্ড থাকার কথা থাকলেও সে সংক্রান্ত কোনো বোর্ড বা বিধি তৈরি হয়নি। এ অবস্থায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত বেআইনি ও এখতিয়ার বহির্ভূত। 

তাছাড়া প্রকাশিত সংবাদে উপাচার্য সংক্ষুব্ধ হয়ে থাকলে প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ করার অধিকার তার আছে। তা না করে ইকবালকে বহিষ্কার করে উপাচার্য ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। সংবাদ প্রকাশের জেরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কারের মাধ্যমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সংবিধানের ৩৯(২)(খ) অনুচ্ছেদে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন করেছে। সেই সঙ্গে ইকবাল মনোয়ারকে তার অবস্থান ব্যাখ্যার কোনো সুযোগ না দিয়ে এভাবে বহিষ্কার করা ন্যায়বিচার পরিপন্থি।

LEAVE A REPLY