ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাটে এক নারীকে প্রকাশ্যে বেধড়ক মারধর ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ পায়।
সোমবার বিকাল ৫টার সময় উপজেলার দুলারহাট থানাধীন নুরাবাদ ইউনিয়নের চরতোফাজ্জল গ্রামের ৪নং ওয়ার্ডে থানা ভবনের পেছনে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে নির্যাতনের শিকার ওই নারী ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে ৩ জনকে আসামি করে বুধবার রাতে দুলারহাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। আসামিরা হলেন- হাফেজ মাজেদ, মো. লিটন ও রিনা।
ভুক্তভোগী নারীর স্বামী জানান, দুলারহাট থানা ভবনের পেছনে ছালাউদ্দিন একটি পুকুর খনন করে কিছু মাছ চাষ করছে। পুকুরটির পাশে তার ওয়ারিশদের সমতল জমি রয়েছে। তাদের পার্শ্ববর্তী বাসিন্দা হাফেজ মাজেদের জমির পানি অপসারণ করার জন্য ছালাউদ্দিনের পুকুরের পাড় কেটে ফেলে। পুকুরটিতে মাজেদের জমির পানি না নেমে ছালাউদ্দিনের পুকুরের মাছগুলো তার ওয়ারিশদের সমতল জমিতে উঠে যায়।
এই সুযোগে হাফেজ মাজেদ জাল দিয়ে মাছগুলো শিকার করে। বিষয়টি নজরে আসায় ছালাউদ্দিন প্রতিবাদ করলে সোমবার সকালে হাফেজ মাজেদ ও তার ছোট ভাই লিটন দুলারহাট থানা ভবনের সামনে ছালাউদ্দিনকে মারধর করে। ওইদিন বিকালে ছালাউদ্দিনের পুকুর পাড়ে হাফেজ মাজেদ ও তার বোন রিনা ফের ছালাউদ্দিনের স্ত্রী রেখা বেগমকে বেধড়ক মারধর ও টেনেহিঁচড়ে নির্যাতন করে।
বুধবার রেখা বেগমকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।মামলা দায়েরের পর হাফেজ মাজেদ, মো. লিটন ও রিনা পলাতক থাকায় তাদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দুলারহাট থানার ওসি আনোয়ারুল হক জানান, মারধরের ঘটনায় দুলারহাট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদেরকে গ্রেফতার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।