সিঙ্গাপুরের নবম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কাল। আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে চলতি বছরের জুন থেকেই মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে দেশটি। কারণ জুনেই সিঙ্গাপুরের সাবেক সিনিয়র মন্ত্রী থারমান শানমুগারত্মম সর্বপ্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
থারমানের ঘোষণার কিছুদিন পর হার্ভে নরম্যান ওসিয়া কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা জর্জ গোহ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবেন বলে জানান। এর এক মাস পর সিঙ্গাপুরের বৈদেশিক রিজার্ভ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুরিয়ান সোভেইরেন ওয়েলথ ফান্ড (জিআইসি) সাবেক প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা এনজি কোক সং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন বলে ঘোষণা দেন।
১১ আগস্ট এনটিইউসি কোম্পানির সাবেক ইনকাম সিইও তান কিন লিয়ান জানান, তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যোগ দেবেন। লিয়ানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যোগ দেওয়ার ঘোষণার পূর্ব পর্যন্ত সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হতে যাচ্ছিল একটি সম্ভাব্য ত্রিশক্তির লড়াই।
সিঙ্গাপুরের বর্তমান প্রেসিডেন্ট হালিমা ইয়াকব। তার মেয়াদ শেষ হবে ১৩ সেপ্টেম্বর। তবে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না ইয়াকব। ২০১৭ সালে মালয় প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মনোনয়ন
সিঙ্গাপুরের ২০২৩ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীরা হলেন, থারমান শানমুগারত্মম, তান কিন লিয়ান ও এনজি কোক সং। এই তিনজন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেছেন।
১৮ আগস্ট এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নাম ঘোষণা করে সিঙ্গাপুরের নির্বাচন বিভাগ। বিজ্ঞপ্তিতে তাদের ‘সততা, ভালো চরিত্র ও খ্যাতি’ পুরুষ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। গোহকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। তার পরিচালিত ৫ কোম্পানির প্রতি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিটি।
প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরা মনোনয়ন পান ২২ আগস্ট। সেদিনই প্রার্থীদের প্রচারাভিযান ও নির্বাচনি প্রতীক জনসাধারণের কাছে উন্মোচন করা হয়। হাতের তালুতে একটি হৃদয় আঁকা প্রতীকে নির্বাচন করবেন এনজি। থারম্যান নির্বাচন করবেন আনারস প্রতীকে। আর নিয়ান নির্বাচন করবেন একটি ফুল পর্যন্ত পৌঁছানো চারটি ফিগার প্রতীকে।
একই দিনে প্রতিটি প্রার্থীর প্রস্তাবক ও সমর্থনকারীদের নামও প্রকাশ করা হয়েছে। তানের প্রস্তাবক হলো তান জি সে। তিনি সিঙ্গাপুরের ২০১১ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। আর দলের সমর্থনকারী হলেন লিম টিন।
তিনি বিরোধী দল পিপলস ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা। তানের প্রচারাভিযান বিরোধী দল প্রোগ্রেস সিঙ্গাপুর পার্টির চেয়ারম্যান ড. তান চেং বকের সমর্থনও পেয়েছে।
তিনজন প্রার্থীই দেশ পরিচালনার পরিকল্পনা ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন ২৪ আগস্ট। দ্বিতীয়বারের পরিকল্পনা ও দৃষ্টিভঙ্গি ৩০ আগস্ট প্রচার করা হবে।
ভোটগ্রহণ পদ্ধতি
সিঙ্গাপুরে শুক্রবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিনকে সরকারি ছুটির দিন হিসাবে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ চলবে সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। ২১ বছর বা তার বেশি বয়সি সব সিঙ্গাপুরবাসীর ভোট দেওয়া বাধ্যতামূলক। সরাসরি ভোটদানে অংশগ্রহণের জন্য যার যার মেইলে পোল কার্ড পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ইপোল কার্ড পাওয়া যাবে সিংপাস অ্যাপের মাধ্যমে।
কার্ডগুলোতে থাকবে ভোটকেন্দ্রের নাম, ইংরেজি, চায়নিজ, মালয় ও তামিল ভাষায় প্রচারপত্রসহ ভোটদান প্রক্রিয়ার বিশদ বিবরণ।
ভোটকেন্দ্রে ভোট দেওয়ার জন্য প্রত্যেককে একটি করে এক্স-স্ট্যাম্প দেওয়া হবে। ব্যালট পেপারে পছন্দের প্রার্থীর পাশে খালি জায়গায় স্ট্যাম্প দিতে হবে।
ক্যানবেরা, লন্ডন, টোকিও, বেইজিং, সাংহাই, হংকং, ওয়াশিংটন ডিসি, সান ফ্রান্সিসকো, নিউ ইয়র্ক ও দুবাইজুড়ে দশটি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া রয়েছে ডাকে ভোট দেওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা।
ভোটদানে ব্যর্থ হলে করণীয়
সিঙ্গাপুরে ২১ বছর বয়স থেকে সব যোগ্য প্রার্থীর ভোট দেওয়া বাধ্যতামূলক। তাই কেউ ভোট দিতে ব্যর্থ হলে নাম ভোটারদের নিবন্ধন তালিকা থেকে মুছে ফেলা হবে। ভোটে অংশগ্রহণে ব্যর্থ ব্যক্তি পরবর্তী প্রেসিডেন্ট অথবা সংসদ নির্বাচনে পুনরায় ভোট দিতে পারবেন না।
তবে পূর্বে ভোট না দেওয়ার কারণসহ নিবন্ধন কর্মকর্তার কাছে একটি আবেদন পাঠিয়ে ভোটারদের নিবন্ধন তালিকায় পুণরায় নাম সংযোগ করা যাবে। ভোটদানে অংশগ্রহণ না করার বৈধ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ভোটের সময় ব্যবসা অথবা অবসর কাটাতে দেশের বাইরে থাকা, অসুস্থতা অথবা বাচ্চা প্রসব করা।
যেভাবে দেখা যাবে নির্বাচনি ফলাফল
২০২৩ সালের নির্বাচনি ফলাফল টেলিভিশন অথবা রেডিওতে ঠিক কখন সম্প্রচার করা হবে তার সঠিক বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে ২০১১ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, সব ভোট গণনা শেষে ভোটের দিন সন্ধ্যায় একটি লাইভ টেলিকাস্টে রিটার্নিং অফিসার ফলাফল ঘোষণা করবেন।
বর্তমান রিটার্নিং অফিসার হলেন সিঙ্গাপুরের জাতীয় উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে হাউজিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (এইচডিবি) সিইও তান মেং হুই।