এবারের জন্মদিন দেশেই কাটাচ্ছেন শাবনূর

অভিনেত্রী শাবনূর। ছবি : সংগৃহীত

বাংলা চলচ্চিত্রে নব্বইয়ের দশকে নন্দিত অভিনেত্রীদের মধ্যে একজন শাবনূর। যে কয়জন নায়িকা সে সময় দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে নিজের নামটা আজও ভক্তদের মনে গেঁথে রেখেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম তিনি। আজ এই অভিনেত্রীর জন্মদিন। ৪৫ বছরে পা দিয়েছেন তিনি।

জন্মদিনের এই বিশেষ দিনটিতে দেশে ফিরেছেন এই অভিনেত্রী।

দীর্ঘদিন ধরেই শাবনূর দেশের বাইরে থাকেন। স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে। মাঝেমধ্যে বাংলাদেশে আসেন ঘুরতে।

প্রয়োজনীয় কাজ শেষে আবার ফিরে যান সেখানে। তবে এবার প্রায় তিন বছরেরও বেশি সময় পর দেশে ফিরেছেন তিনি। শাবনূর একটি গণমাধ্যমে জানান, পরিবার ও কাছের মানুষেরা ছাড়া ঢাকায় আসার খবরটা আপাতত কেউ জানে না। তিন বছর পর দেশে ফেরাতে জমে আছে অনেক কাজ।

সেসব কাজই সারছেন তিনি।

শুধু তাই নয়, অভিনয়ে ফেরার কথাও রয়েছে শাবনূরের। সিনেমার গল্পও শুনছেন, রিহার্সাল করছেন, নিজেকে প্রস্তুত করছেন তিনি। জানা গেছে, অভিনেত্রীর পুরোপুরি ফিট হতে সময় লাগবে কয়েক মাস। তারপরই ফিরবেন তিনি।

শাবনূরের পারিবারিক নাম কাজী শারমীন নাহিদ নূপুর। ১৯৭৯ সালের ২৭ ডিসেম্বর যশোর জেলার শার্শা উপজেলার নাভারণে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। নব্বইয়ের দশকে শাবনূরের চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু হয়। ১৯৯৩ সালে প্রয়াত নির্মাতা এহতেশামের ‘চাঁদনী রাতে’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তার। এই চলচ্চিত্রে শাবনূরের বিপরীতে অভিনয় করেন সাব্বির।

১৯৯৪ সালে জহিরুল হকের ‘তুমি আমার’ চলচ্চিত্রে সালমান শাহ’র বিপরীতে প্রথম অভিনয় করেন শাবনূর। এই চলচ্চিত্রটির পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি এই অভিনেত্রীকে। একের পর এক সুপারহিট চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন ঢালিউডের এই ‘স্বপ্নের নায়িকা’।

সালমান শাহর ২৭টি চলচ্চিত্রের মধ্যে ১৪টিতেই জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন শাবনূর। তাদের জুটি ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম সফল জুটি। তাদের বেশির ভাগ চলচ্চিত্রই দর্শকনন্দিত ও ব্যবসাসফল। সালমান শাহর মৃত্যুর পর নায়ক রিয়াজ, ফেরদৌস, মান্না ও শাকিব খানের সঙ্গে জুটি বেঁধে পর্দায় হাজির হয়েছেন শাবনূর।

সর্বশেষ ২০১৫ সালে ‘পাগল মানুষ’ সিনেমায় দেখা গিয়েছিল শাবনূরকে। এরপর আর কোনো সিনেমায় উপস্থিত হননি দর্শকপ্রিয় এ তারকা। সিনেমা থেকে সাময়িক দূরত্ব তৈরি হলেও এ অভিনেত্রীর জনপ্রিয়তায় একটুও ভাটা পড়েনি।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে শাবনূর ১৫০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তার মধ্যে শাবনূরের প্রিয় ১০টি ছবির নাম উল্লেখ করা হলো : ‘স্বপ্নের ঠিকানা’,  ‘তোমাকে চাই’ ,  ‘স্বপ্নের পৃথিবী’ , ‘জীবন সংসার’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘বিয়ের ফুল’, ‘এ বাঁধন যাবে না ছিঁড়ে’, ‘নারীর মন’, ‘দুই নয়নের আলো’, ‘আমার প্রাণের স্বামী’।

শাবনূর মানেই শুধু দুর্দান্ত সিনেমা নয়। তার সঙ্গে ছিল মনে রাখার মতো একাধিক জনপ্রিয় গানও। যেমন ‘কিছু কিছু মানুষের জীবনে’, ‘তুমি আমার এমনই একজন’, ‘উত্তরে ভয়ংকর জঙ্গল’, ‘ও সাথী রে’, ‘এই বুকে বইছে যমুনা তার অথৈ’সহ একাধিক জনপ্রিয় গান এবং সিনেমা দর্শকের মনে এতটাই জায়গা করে নিয়েছে যে আজও মনে মনে গুনগুন করেন তারা। বেশ কয়েক বছর পর্দায় না থাকলেও জনপ্রিয়তা কমেনি এই অভিনেত্রীর। দর্শক থেকে ভক্ত-অনুরাগীরা মুখিয়ে রয়েছেন আবারও পর্দায় তাঁর অভিনয় দেখার জন্য।

২০০৫ সালে মোস্তাফিজুর রহমান মানিক পরিচালিত ‘দুই নয়নের আলো’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান শাবনূর। এ ছাড়া ‘বউ শাশুড়ির যুদ্ধ’ চলচ্চিত্রের জন্য ২০০৩ সালে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে বাচসাস পুরস্কার অর্জন করেন এই অভিনেত্রী।

LEAVE A REPLY