দেবাশীষ বিশ্বাস
দেবাশীষ বিশ্বাস মানে নস্টালজিয়া। একুশে টিভির জামানায় যারা স্ট্রিট শো ‘পথের পাঁচালি’ দেখতেন তারাই কেবল এটা অনুভব করতে পারেন। ইউটিউবের কল্যাণে এখন যখন অনুষ্ঠানটি চোখে পড়ে তখন এটি সবুজ পাতার সতেজ উপহার দেয়। এরপর দেবাশীষ মন দেন সিনেমা নির্মাণে।
প্রথম ছবি ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’ ব্যবসাসফল হয়। এই ছবির সফলতা তাকে পরিচালক হিসেবে ক্যারিয়ার এগিয়ে নিতে সাহায্য করে। পরিচালনা ও উপস্থাপনা চলতে থাকে হাত ধরাধরি করে। নির্মাণ-উপস্থাপনা দুই মাধ্যমেই সফল দেবাশীষ বিশ্বাস।
সম্প্রতি তিনি যুক্ত হয়েছেন ‘দৈনিক কালের কণ্ঠ’র ডিজিটাল টিমে। তার সঙ্গে কথা বলেছেন সুদীপ কুমার দীপ
আমেরিকা গিয়েছিলেন। এবারের সফর কেমন হলো?
একটা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতে গিয়েছিলাম। এ ছাড়া একটি ঘরোয়া আয়োজনে গানও পরিবেশন করেছি।
নিজের কিছু কাজ ছিল, সেগুলোও করেছি। মোট ১২ দিন ছিলাম। দারুণ কেটেছে।
আমেরিকায় তো আপনার একটা ছবি নির্মাণের কথা ছিল, সেটার খবর কী?
গল্প, গানসহ অন্যান্য প্রি-প্রোডাকশনের কাজ সম্পন্ন করেছি। এবার গিয়ে প্রযোজকের সঙ্গেকথা চূড়ান্ত করেছি।
ছবির নাম দিয়েছি ‘লাভ ইন ক্যালিফোর্নিয়া’। নতুন বছরের শুরুতে ছবিটির শুটিং শুরু করব আমেরিকায়। সেখানকার আরো কয়েকটি প্রজেক্ট হাতে নিয়েছি। আমেরিকান বাংলা চ্যানেল ‘প্রজন্ম টিভি’র দুটি শো উপস্থাপনা করব।
কালের কণ্ঠর ডিজিটাল প্ল্যাটফরমের জন্য কী করতে চলেছেন?
‘কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে আমার সম্পর্কটা পারিবারিক। ২০১০ সালের ১০ জানুয়ারি যেদিন পত্রিকাটি বাজারে আসে সেদিন থেকেই বাসায় পত্রিকাটি রাখি। তারাও আমার ছবি নির্মাণসহ যত ধরনের কাজ হাতে নিয়েছি সব সময় গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে। হঠাৎ একদিন পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী ভাইয়ের ফোন পেলাম। তিনি আমাকে অফিসে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানালেন। যাওয়ার পর পত্রিকাটির ডিজিটাল প্ল্যাটফরমের একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করার প্রস্তাব দিলেন। যেহেতু আমি প্রথম থেকে ‘কালের কণ্ঠ’কে নিজের পরিবার জেনেছি, তাই রাজি হয়ে গেলাম। অনুষ্ঠানটির নাম ‘বিশ্বাসে মেলায় বন্ধু’। এই অনুষ্ঠানে দেশের বড় তারকারা হাজির হবেন। তিনটি পর্বে সাজিয়েছি একেকটি অনুষ্ঠান। প্রথম পর্বে থাকবে, ‘যাহা বলিব সত্য বলিব’। এই পর্বে তারকার জীবনে ঘটে যাওয়া সত্য ঘটনাগুলো বলবেন। কোনো মিথ্যে থাকবে না। পরের পর্ব ‘যদি কিছু মনে না করেন’। এই পর্বে তারকাকে কিছু প্রশ্ন করা হবে, সেই প্রশ্নে বিব্রত হলেও তিনি কিছু মনে করতে পারবেন না। শেষ পর্ব ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’। এই পর্বে তারকা তার জীবনযুদ্ধ, প্রতিষ্ঠিত হওয়া এবং শেষ জীবন নিয়ে ভাবনা বলবেন। আমরা প্রতি সপ্তাহে একটা করে অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে পরবর্তীতে সময় বাড়তে পারে।
একটা সময় টিভি চ্যানেলগুলোতে রিয়ালিটি শো হতো হরদম। এখন সেটা হচ্ছে না বললেই চলে। হঠাৎ রিয়ালিটি শোর বাজার পড়ে যাওয়ার কারণ কী বলে মনে করছেন?
প্রথম কারণ আমরা এত বেশি এটা করে ফেলেছি যে, দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে। ‘ক্লোজআপ ওয়ান—তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’ থেকে শুরু করে ‘সুপার হিরো সুপার হিরোইন’—যত জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো হয়েছে সবগুলোর উপস্থাপক আমি। একটা সময় নিজেও চ্যানেল কর্তৃপক্ষকে বলেছি একটা বিরতি দিতে। তাহলে দর্শকের আগ্রহ বজায় থাকবে। তারা সেটা মানেনি, ফলে যা হওয়ার তা-ই হয়েছে। আর মানুষ নিজেই এখন বাস্তবতার সঙ্গে লড়ছে। প্রতিনিয়ত জীবনযাপন কঠিনতর হচ্ছে। এই সময় পর্দার রিয়ালিটি শো কে দেখবে বলেন?
‘তুমি যেখানে আমি সেখানে’ নামে একটা ছবির শুটিং শুরু করেছিলেন। সেটার কাজ কত দূর এগোলো?
৭০ শতাংশ কাজ করেছি আগেই। এরপর তো ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী সরকারের পতন হলো। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মাত্র গুছিয়ে এনেছে। বাকি ৩০ ভাগের শুটিং করব এখন। ইচ্ছা আছে আগামী বছর দুই ঈদের মাঝখানে ছবিটি মুক্তি দেওয়ার।
চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির নির্বাচন সামনে। আপনি নির্বাচন করবেন?
না। তবে ভোট দেব, প্রিয় প্রার্থীদের সমর্থনে কাজও করব। পরিচালক সমিতি আমার প্রাণের সংগঠন। আমার বাবা প্রয়াত নির্মাতা দীলিপ বিশ্বাসও এই সমিতির প্রতিনিধি ছিলেন। সেই দিক থেকেও একটা ভালোবাসা কাজ করে।
উপস্থাপনা ও পরিচালনার পর গানেও তো ব্যস্ত হয়েছেন। বেশ শো-ও নাকি করছেন…
শুরুতে ভাবিনি এতটা সাড়া পাব। শুধু গাওয়ার জন্যই মাঝখানে একবার আমেরিকায় আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছিলাম। ঢাকায়ও বিভিন্ন জায়গা থেকে গানের শো আসছে। মজার ব্যাপার হলো, কোথাও উপস্থাপনার ডাক পেলেও দর্শক সব শেষে আমার কণ্ঠে গান শুনতে চায়। বিষয়টি দারুণ উপভোগ করি। আমার বাবার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল প্যারোডি গায়ক হিসেবে। মা গায়ত্রী বিশ্বাসও খুব সুন্দর গান করেন। মূলত উপস্থাপনা ও পরিচালনার কারণে গান থেকে যখন দূরে সরে পড়ছিলাম তখন মায়ের উৎসাহেই গানে ফেরা। বলে রাখা ভালো, আমি কিন্তু ছোটবেলায় নিয়মিত গাইতাম।